গোটাদেশ মনোনয়ন যুদ্ধ প্রতিযোগিতায় ভাসছে

—আবু মো. ইউসুফ আলী—-

গোটাদেশ মনোনয়ন যুদ্ধ প্রতিযোগিতায় ভাসছে। মহজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একদিকে শেখ হাসিনা, অন্যদিকে ড. কামাল ও ফখরুল গং। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে উভয় জোটে। কোনে কোনো আসনে একের অধিক প্রার্থী। আবার কোথাও কোথাও তিন চার জনকে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নের চিঠি। কি হবে মনোনয়ন প্রাপ্তি ও প্রাপ্ত একের অধিক প্রার্থীদের। সেজন্য ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং বিদ্রোহের আভাস পাচ্ছি আমি উভয় জোটে কমবেশি বিদ্রোহ দেখা দিবে।

অবশ্য জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ঘোষণা বিদ্রোহ ঠেকাতে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন যে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার। কতটা কার্যকর হবে তা অনুমান এখন করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপিসহ ২০দলীয় জোট তথা ঐক্যফ্রন্ট কতটা বিদ্রোহ ধমন করতে পারবেন তা আমার কাছে বোধগম্য নহে। অবশ্যই তারা মরণ কামড় দিয়ে মাঠে আছে, ক্ষমতা যেতে হবে। ক্ষমতা ছাড়া বিএনপি কিছু বুঝার চেষ্টা করেনা, কোনো কালেও ছিলো না এখনো নাই।

ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামালের মত ও পথ আবার ভিন্ন তিনি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না বলে দেশি বিদেশী বুদ্ধিজীবীদের ধারণা। ড. কামাল ভোটে দাঁড়াতে চাচ্ছেন না। যদিও আমার আকাঙ্খা ড. কামাল নির্বাচনে নিজের প্রতীকে না হলো ও অন্যের প্রতীক ধানের শীষে দাঁড়িয়ে ভোট করলে হয়তবা টেনে টুনে পাশ করতে পারেন অবশ্য আমার ভাবনা ড. কামাল হয়তবা এটাও ভাবেন আমিতো পূর্বে জনপ্রিয় মার্কা নৌকায় নির্বাচন করে

একবারে ডাব্বা কাইত। সে হিসাবে বড় চিন্তায় বেচারা নির্বাচনের প্রাথী হতে যাচ্ছেন না। ভাবনা আমার আমি সংসদীয় আসন সংখ্যায় ২৬৪ চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি এলাকার বাসিন্দা। এখানে উভয় জোটে একের অধিক প্রাথী মনোনয়ন ফরম পেয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট থেকে এমএ মতিন ও ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক অন্যদিকে মহাজোট থেকে আল্লাম সৈয়দ বাহাদুর শাহ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী ঘোষণা মতে এখন পর্যন্ত মেজর (অব.) রফিকুল ইসরাম বীর উত্তম।

এমএ মতিন ও মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম উভয় তিনবারের নির্বাচিত এমপি এবং বয়সের বাড়ে জর্জরিত। অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক নেতাকর্মীদের মাঝে জনপ্রিয় অপেক্ষাকৃত বেশি। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে আবার ভিন্ন। এখানে জোড়ালো মনোনয়ন প্রত্যাশিত নেতাদের নমিনেশন না দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা এক প্রার্থীর মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম নামে চিঠি দিয়েছে।

এখন আমি চিন্তায় নির্বাচনে জয় পরাজয়ে হিসাব নিকাশে ৮ তারিখ বা প্রত্যাহারের শেষ দিন যদি এমন হয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ও মহা জোট থেকে মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম মাঠে থাকেন তাহলে এখনি উভয় নেতার কোন্দলন নিজ উদ্দোগে ন¤্রতা ভদ্রতা ও সহনশীল আচারণ দিয়ে দলীয় কোন্দলন

মিটিয়ে ফেততে হবে। অবশ্য আমার ভাবনা সেক্ষেত্রে মমিনুল হক অতিদ্রুত মিট করতে পারেন কোন্দলন নামক ব্যাধি। অন্যদিকে মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম সেক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে থাকবেন। এখানে জনপ্রিয় নেতা অধ্যাপক একেএম ফজলুল হক, ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, সফিকুল আলম ফিরোজকে ম্যানেজ করে নির্বাচন শেষ পর্যন্ত নৌকা ঘাটে নিয়ে যাওয়া কঠিন।

কারণ হিসাবে আমার কাছে লক্ষণীয় যে, আওয়ামী লীগের মনোনয় প্রত্যাশিদের নিকট এখনোও মেজর সাহেব সৌজন্যবোধে একটি ফোনও পর্যন্ত করেননি। আমি দেখেনি মেজর সাহেব নমিনেশন জমা দেওয়ার সময়ে একমাত্র হাটে হাট নাতীনের বিয়ে (অধ্যাপক আব্দুর রশিদ মজুমদার) ছাড়া কোনে ত্যাগি সৎ জনপ্রিয় নেতাদের উপস্থিতি ছিলো না।

আবার সৈয়দ বাহাদু শাহ মহাজোটে অংশ তিনি তাহার নেতাকর্মীদের দিয়ে ইতিমধ্যে নমিনেশন জমা দিয়েছেন। চুড়ান্ত মনোনয়ন যুদ্ধে যদি বাহাদুরশাহ না হয়ে মেজর রফিকুর ইসলাম হন তাহলে আমি বেশ চিন্তায় কারণ হবে। আবার মহাজোটের অংশিদার আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ।

নাকে খত দিয়ে কেউ আবার যাবে কিনা আমার সন্দেহ জাগে মনে। গেলেও আবার মনে প্রাণে মেজর রফিকের পক্ষে কাজ করবে বলে আমার মনে হয় না। পক্ষে কাজ করতে হলে একটি পরামর্শ মেজর রফিকের উচিত বিচক্ষণতা, নমনীয়তা ভদ্রতা দিয়ে চেষ্টা করা নচেৎ বিরুপ ফলের জন্য অপেক্ষা ছাড়া আর কিছই না। আর মহাজোটের অংশিদার আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহের ক্ষেত্রে একই পরামর্শ।

তথাপি এইরূপ ভাবনা নির্বাচনের পরের কথা এখন নির্বাচনের আগে ফিরে যাই। একদিকে আমাবশ্যার চাঁদ অন্যদিকে কালবৈশাখী কালো অন্ধকার বিরাজমান। আল্লাহ না করুক কালবৈশাখী ঝড়ে যেন নির্বাচনী উৎসব অন্ধকারে না পড়–ক। আমার সন্দেহ মিথ্যা হয় এটাই আমার প্রত্যাশা।

চুড়ান্ত মনোনয়নের মহাজোট থেকে চ্যালেঞ্জ মুখে বেশি পরবে ড. কামালের ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের আগে ভেঙ্গে আবার খান খান হয় নাকি তাও দেখার বিষয়। যে জোট যত ভালো, ত্যাগি, সৎ, জনপ্রিয় প্রার্থী দিতে পারবে সে জোটের তত ভালো ফল পাবে আমার ধারণা।

জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ খবর

দিনপঞ্জিকা

September 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

আর্কাইভস