চাঁদপুর আদালতে পাপ-পুণ্য’ নিয়ে হাজির হয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী

মো. ইসহাক হোসাইন (সজীব):
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নতুন চলচ্চিত্র ‘পাপ-পুণ্য’ নিয়ে এবার চাঁদপুর আদালতে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ‘মনপুরা’ ও ‘স্বপ্নজাল’ ছবির পর এবার নতুন এই চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করছেন খ্যাতিমান এই পরিচালক।

শনিবার সকাল থেকেই চাঁদপুর আদালতে ছবিটির শ্যুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলো পুরো টিম। এদিন চাঁদপুরে তাদের টিমের ১৩ তম দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সিনেমার চলমান কার্যক্রম ও প্রিয় অভিনেতাকে দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় ছিলো লক্ষ্যনীয়।

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য এই চলচ্চিত্রটিতে দ্বিতীয়বারের মতো অভিনিত চঞ্চল চৌধুরী ছাড়াও থাকছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম। তবে সিয়াম এবারই প্রথম তাঁর ছবিতে অভিনয় করছেন। ছবিটি নিয়ে কথা হলো অভিনেতা সিয়ামের সাথেও। সিয়াম জানান, ‘ এর আগেও চাঁদপুরে কাজ করেছি তবে এবারের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। আশা করি দর্শক নতুন কিছু চমক পাবে।

এছাড়াও ছবিতে আরও রয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু,আফসানা মিমি,ফারজানা চুমকি সহ অনেকে। ছবিটির প্রথম ধাপের কাজ এখানে শেষ হবে এবং মুভিটির প্রায় ৮০ ভাগ চাঁদপুরের দৃশ্যপট রয়েছে, শ্যুটিং হাউসের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে এমনটি জানা গেছে। গত ২৬ আগস্ট চাঁদপুরের সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে ঐতিহ্যবাহী হরিপুর চৌধুরী বাড়িতে ছবিটির চিত্র ধারণের কাজ শুরু হয়।

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী, হরিপুর চৌধুরী বাড়ির মুকুট চৌধুরী ছবিটির সিংহভাগ দৃশ্যপট আমাদের হরিপুর চৌধুরী বাড়িতে হয়েছে। এছাড়াও গত কয়েকদিন ধরেই চাঁদপুরের বিভিন্ন লোকেশনে মুভিটির শ্যুট করা হয়েছে। আর ছবিটির একাংশে আমিও অভিনয় করেছি। আর সিনিয়র আর্টিস্ট দের সাথে কাজ করার মাধ্যমে, এই অভিজ্ঞতা সত্যিই আনন্দজনক। এদিকে ছবিটি প্রসঙ্গে নির্মাতা সেলিম জানান, ‘আগে যে দুটি ছবি বানিয়েছি, মানুষের মৌলিক তাড়না নিয়েই চলচ্চিত্রটির কাহিনি। এ ছবিটির কনসেপ্ট সম্পূর্ণ আলাদা। এবার বাকিটা নির্ভর করছে শুটিংয়ের ওপর।’মনপুরা’র পর মাঝের ১০ বছরে গিয়াস উদ্দিন সেলিম মাত্র একটি ছবিই নির্মাণ করেছেন। পরীমনি ও ইয়াশ রোহানকে নিয়ে নির্মিত ‘স্বপ্নজাল’ ছবিটি প্রশংসা কুড়ালেও বাণিজ্যিক বিচারে তেমন এগুতে পারেনি। অন্যদিকে ‘মনপুরা’র মতোই সিনেমা অধ্যায়ে গেল ১০ বছরে ভালোই ভেলকি দেখিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। যার সর্বশেষ উদাহরণ ‘দেবী’, তারও আগে ‘আয়নাবাজি।

উল্লেখ্য, গত ২০০৯ সালে মুক্তি পায় গিয়াস উদ্দিন সেলিমের প্রথম ছবি ‘মনপুরা’। মুক্তির পর ছবিটি সারা দেশে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করে। টানা অনেক দিন দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি প্রদর্শিত হয়। মধ্যে লম্বা বিরতির পর গত বছর এপ্রিলে মুক্তি পায় তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘স্বপ্নজাল’। প্রথমটির মতো বাণিজ্যিক সাফল্য না পেলেও ছবিটি দর্শকের কাছে সমাদৃত হয়। এদিকে মুক্তিযুদ্ধে নৌ–অভিযানের ঘটনা নিয়ে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ছবি তৈরির কথা শোনা গেলেও তার কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রথম দুটি চলচ্চিত্রে প্রেম আর ভালোবাসার আড়ালে গিয়াস উদ্দিন সেলিম দেখিয়েছেন বাংলার চিরায়ত রূপ, কুসংস্কার, ক্ষমতাবান ও নিপীড়িতের দ্বন্দ্ব ও সাম্প্রদায়িকতা। কেমন হবে তৃতীয়টি? ছবির গল্প এখনই বলতে চান না​ পরিচালক। শুধু বললেন, ‘মানুষের মৌলিক তাড়নাকেই ফুটিয়ে তুলতে চাই নতুন মোড়কে। আগে যে দুটি ছবি বানিয়েছি, ছবিটি তা থেকে আলাদা হবে।

জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ খবর

দিনপঞ্জিকা

September 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

আর্কাইভস