মাকে রেখে গেলো নিষ্ঠুর পুত্র ও পুত্রবধু-

 আজো সেই রেখে যাওয়া নিষ্ঠুর পুত্রের জন্য  দুহাত তুলে দোয়া করছেন চির দুখিনী গর্ভধারিনী  ‘মা’


—মো. সাইফুল ইসলাম—

দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে ভূমিষ্ঠের পরে কোলে পিঠে করে যে সন্তানকে লালন পালন করে বড় করার পর ঘরে এনেছে একটু শান্তির মুখ দেখবে বলে পুত্র বধুকে। অথচ সেই দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণকৃত সন্তান ও তার একমাত্র পুত্রবধু মিলে নিষ্ঠুর ভাবে দীর্ঘ দিন ধরে চাঁদপুর-লাকসাম রেল সড়কের হাজীগঞ্জ রেল স্টেশনের একটু পশ্চিমে অঘোর জঙ্গলের মধ্যে পরিত্যাক্ত রেল ভবনে রেখে যাওয়া সেই শত বছরের বৃদ্ধ মা আজো সেই রেখে যাওয়া নিষ্ঠুর পুত্রের জন্য কনকনে ঠা-ায় কষ্ট পেয়েও দুহাত তুলে দোয়া করছেন চির দুখিনী গর্ভধারিনী হতভাগী ‘মা’।

এ কেমন নিষ্ঠুর পুত্র ও বধু। মাকে রেখে যাওয়ার সময় কিছুই দিয়ে যাইনি তারা। বৃদ্ধ মানুষটি দুখে দুখে মরছে পরিত্যাক্ত এই ভবনে। যেখানে নেই রাতের বেলায় কোনো আলোর ব্যবস্থা। থাকার জায়গা নেই কোনো খাট পালন, লেপ তোষক, আছে শুধু মাত্র একটি ভিক্ষে করে আনা জোড়া তালি দেয়া মশারী। একটি পাতিল আর নিজের হাতের তৈরি মাটির চুলা। এই কনকনে ঠা-া দিয়ে আলিশান বাড়িতে আমরা লেপ তোষকে ঘুমিয়ে যেনো ঠা-া মনে হয়। অথচ এই চারদিক খোলামেলা কনকনে শীত ও ঠা-া বাতাসের মধ্যে কিভাবে রাত্রি যাপন করছেন এই বৃদ্ধ ‘মা’।

এক নজর না দেখলে যেনো বিশ^াস করা যায় না। কয়েকদিন পূর্বে লেখক নিজে সেই জায়গায় গিয়ে দেখে এই হালচিত্র। দুরদুরান্ত থেকে এই হতভাগী মায়ের কথা শুনে অনেক মা বোন আসছেন ছুটে। অনেকেই আসার সময় চাল ডালসহ খাবার সামগ্রী নিয়ে আসতে দেখা গেছে। লেখকের এক প্রশ্নের জবাবে যখন তিনি বলে উঠলো আমার বাড়ি পাহাড়ে। আমার ছেলে ও ছেলের বউ আমাকে ট্রেনে করে এখানে এনে রেখে গেছে। জানিনা আজ ওরা কেমন আছে। ওদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভালো রাখুক, সুখে রাখুক এই দোয়া করি এখানে বসে সব সময়।

এক লোক যখন বলল, আপনি কি হিন্দু না মুসলিম? তখন তিনি ওই প্রশ্নের জবাবে তিনি সুরা ও কালিমা পড়তে শুরু করেন। এরই মধ্যে হাতে একটি তসবিও গুণতে দেখা গেছে। এ কেমন নিষ্ঠুর সন্তান যে একটি নারীর কথায় তার গর্ভধারিনী মাকে এভাবে নির্জন জায়গায় রেখে যেতে পারে। সে কি একবারও ভাবলনা যে, আমরাওতো একদিন এভাবে যদি আল্লাহরাব্বুল আলামিন হায়াতে তাইবা দান করেন তাহলে বৃদ্ধ মায়ের মতই হবো। সেদিন আমাদের পুত্রবুধু আমাদেরকেওতো হয়তো কোনো এক নির্জন জায়গা ঠিক এমনি ভাবে ছুড়ে রেখে যাবে। সেদিন তোমরা বুঝবে এই মায়ের যে কত কষ্ট হয়েছে এই নির্জন রেল পত্যিাক্ত ভবনে থেকে।

-লেখক-
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক
হৃদয়ে চাঁদপুর

জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ খবর

দিনপঞ্জিকা

September 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

আর্কাইভস