হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও শুরা হয়নি, ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটছে, ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

মো. নজরুল ইসলাম জসিম: 

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও শুরু হয়নি? দিব্যি ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটছে প্রতিপক্ষ। বসতভিটা বাডী বিল্ডিং পুকুরসহ ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা। জানা যায়, হাজিগঞ্জ পৌরসভাধীন ৩নং ওয়ার্ড রেললাইনের পাশে অবস্থিত মৃত. মো. তাফাজ্জল হোসেন সরদারের ছেলে মো. কামাল হোসেন সরদারদের বসতভিটা উত্তর পাশে অবস্থিত নাল জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করার প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেওয়া শর্তেও আজও কোন সূরা হয়নি । এতে করে অভিযোগ দাতাগণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িঘর ও পুকুর রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাড়ির পাশে ও পুকুরের পাড় ঘেঁষে দশ হাতের মাথায় মাটি খননের জন্য ড্রেজার বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা প্রায় দেড় লক্ষ স্কয়ার ফিট বালী বিক্রি করেছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাডি ও ফসলি জমি ক্ষতি ড্রজার দিয়ে মাটি খনন করা প্রসঙ্গে অভিযোগে আবেদনকারী মো. আবুল হাসনাত সর্দার, মো. কামাল হোসেন সরদার, মোহাম্মদ মোস্তফা সরদার, বিল্লাল হোসেন সরদার, পিতা মৃত. মো. তাফাজ্জল হোসেন সরদার। রেললাইন সংলগ্ন উত্তর পাশের সরদার বাড়ি, বলাখাল হাজিগঞ্জ, চাঁদপুর, বিবাদী মো. মিজানুর রহমান, পিতা. মৃত আবুল বাশার মিজি, গ্রাম দেররা মিয়াজী বাড়ি ।

অভিযোগ বিনীত নিবেদন এই যে বিবাদীরা আমাদের পার্শ্ববর্তী ভূমি মালিক তার তফসিল ভূমি ও পুকুরের মাটি অন্য ব্যক্তির নিকট বিক্রি করিয়া ফসলি জমি পুকুরে ড্রেজার বসিয়ে মাটি খনন করার জন্য পায়তারা করে আসছে ।এই ভূমি হতে ড্রেজার দ্বারা মাটি খনন করলে তার পাশে থাকা আমাদের বিভিন্ন দাগের পত্রিক ৭১ সতাংশ ফসলি জমিসহ বাড়ির অংশ ভেঙ্গে আমাদের অফুরন্ত ক্ষতি হবে। এতে করে আমাদের বসতভিটাসহ ফসলি জমি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায় আমরা নিরুপায় হয়ে উল্লেখিত বিবাদী যাতে উক্ত ফসলি জমি ও পুকুরের মাটি খনন না করতে পারে তার জন্য আপনার শরণাপন্ন হইলাম, উল্লে যে গত দুই বছর পূর্বে উল্লেখিত বিবাদী উক্তরূপে পুকুর হইতে ড্রেজার দ্বারা মাটি খনন করতে গেলে আমরা হাজিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মহোদয়ের কাছে দরখাস্ত করি তিনি বিবাদীর মাটি খনন কাজ বন্ধ করে দেন অথচ বর্তমানে আমরা হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও ড্রেজার বন্ধ করতে পারিনি ড্রেজার কাজ দিব্যি চালিয়ে আসছে । আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে করছি। নয়তোবা নিষিদ্ধ এই ড্রেজার এর কবলে পড়ে আমরা সর্বোচ্চ হারাবার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধি কে অভিযোগের বাদী মো. কামাল হোসেন সরদার বলেন, বিবাদী কাউকে কোন তোয়াক্কা না করে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়াকে পান্তা ভাতের মত মনে করে অগার্থ বাসায় ব্যবহার করে ড্রেজার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছে যে, কে কি করবে? আমার জায়গা থেকে মাটি বিক্রি করার জন্য ড্রেজার বসিয়েছি। আমার ইচ্ছা মত আমি মাটি কাটবো, মাটি কেটে আমার জায়গায় আমি সাগর বা নদী করব সেটা আমার একান্ত ব্যাপার।

আমার কাজে কেউ বাধা দিতে আসলে তার পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকি প্রদান করছে, তাই আমরা ও আমার বাড়িসহ ফসলি জমি পুকুর চরম নিরাপত্তা হীনতায় আছে। অভিযোগ দিয়েছি ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ আজ চলছে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০ মাটি উত্তোলন করা সত্বেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর কোন সুপরামর্শ বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

২০১৮ সালে যখন একই স্থানে একই ব্যক্তি ড্রেজার বসানোর পদক্ষেপ নেয় তখন হাজিগঞ্জ পৌরসভা বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক মেয়র আসাম মাহবুবুল আলম লিপন এর নির্দেশক্রমে ১নং প্যানেল মেয়র ও ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রায়হানুর রহমান জনি উক্ত কাজ বন্ধ করে দেয়। অথচ এবারের অভিযোগ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর করা সত্বেও আজও কাজ বন্ধ হয়নি । এ নিয়ে এলাকার জনগণের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ খবর

দিনপঞ্জিকা

September 2020
M T W T F S S
« Aug    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

আর্কাইভস