হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের সাথে চট্টগ্রাম গমন


:মো. সাইফুল ইসলাম:


হাজীগঞ্জ পৌরসভার দ্বিতীবার মেয়াদে নির্বাচিত মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপনের সাথে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শপথ পাঠ অনুষ্ঠানে যাওয়া আসা নিয়ে মন্তব্য। ভালোবাসার হৃদয় নিসৃত দরদি আবেগে আমরা কজন হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সফর সঙ্গি হই। সফর সঙ্গি হিসাবে গিয়েছি সৌন্দর্যময় প্রাচীন নগর চট্টগ্রামে। রাত ৩টায় ঘুম থেকে জেগে সকল প্রস্তুতি সেরে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সামনে এসে একে একে সকলে একত্রীভূত হয়ে হাজীগঞ্জ রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে পায়ে হেটে তিরানব্বই জনের সফর সঙ্গি একসাথে রওয়ানা দেই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে।

হাজীগঞ্জ রেলস্টেশনে ফজরের নামাজ শেষ করে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দপূর্ণ পরিবেশে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকলাম চাঁদপুর থেকে ট্রেন আসার অপেক্ষায়। অন্ধকারে জোনাকী পোকার মিটি মিটি দৃপ্তময় আভা উপভোগ করার মাঝে আসলো ট্রেন। সবাই তড়িঘড়ি করে ট্রেনের সিট দখলে ব্যস্ত। আনন্দ ঘন পরিবেশে কে কোন জায়গায় বসবে এ নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা। পূর্ব দিকে সূর্য উদিত হচ্ছে। দৃপ্তময় আভা ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের ট্রেনটি যেনো এমন দ্রুত বেগে চলছে যে, উদিত সূর্যের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছবে এমনি মনে হয়েছে। কিছুক্ষণ পর দেখি সূর্য ওঠার পর লাকসাম রেল জংশন।লাকসাম রেল জংশনে গিয়ে ট্রেন এর ইঞ্জিন ট্রেন্সপার করা হচ্ছে। মাত্র ১৫ মিনিটের যাত্রা বিরতিতে অনেকেই লাকসাম রেল জংশনে নেমে শারীরিক ব্যায়াম করছে। ডায়বেটিজে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কায়িক পরিশ্রমে ব্যস্ত থাকতে দেখা গিয়েছে। এতে দেহ ও মন হয়েছে আলোড়িত অকপটে করছি স্বীকার। কেউবা আবার কলা রুটি খাওয়াতে ছিলো মগ্ন। এরি মাঝে ইঞ্জিনের কাজ সমাপ্ত। ট্রেনের বাঁশির সুরের মূর্ছনায় সকলে ট্রেনের সিটে এসে বসে যায়। হাজীগঞ্জ থেকে যারা নিজকে নিজে অনেক বুদ্ধিমান ভেবে ট্রেন যেদিকে চলে সেদিকে মুখ দিয়ে বসেছিলেন।

বুদ্ধিমানরা সকলে ট্রেনের কাছে বুদ্ধিমত্তায় হেরে গেলেন, ইঞ্জিন ট্রেন্সপারের পরপরে। যারা বসে ছিলেন ট্রেনের বিপরীতে মুখ করে তারা ইঞ্জিন ঘুরার সাথে সাথে তাদেও ভাগ্যের চাকাও ঘুওে গেলো যে। এ নিয়েও সবার মাঝে হাসি তামাসার রোল পড়ে যায়। ঝনঝনা শব্দে রওয়ানা দিলাম লাকসাম থেকে চট্টগাম রেল জংশনের উদ্দেশ্যে। ট্রেন থেকে উপভোগ করলাম গ্রামীণ ঐহিহ্যের নিটোল রূপ। সকলের মাঝে আনন্দ বিনোদন দিতে কেউ গায় ভাটিয়ালি, কেউ গায় জারি সারি, কেউ গায় বাউল গান। এই ভাবে চলে বিলাস-বৈভবে আনন্দ উৎসব ও ট্রেন।

চট্টগ্রাম রেল জংশনে সকাল ১০টায় ট্রেনটি পৌছে। সেখানে গিয়ে দেখি ট্রেন স্টেশনে ফুলের তোড়া নিয়ে নেতাকর্মী জড়ো হয়েছে এ যেনো এক নিরাপত্তার বেষ্টনী। ফুলের তোড়া ও বিপুল ভালোবাসায় মনমুগ্ধকর পরিবেশে হাজগঞ্জ পৌরসভার নগর পিতা আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপনসহ সকলকে সংবর্ধনা দেন। হাজীগঞ্জের কৃতি সন্তান যারা বর্তমানে চট্টগ্রামে ব্যবসা বাণিজ্য করে অবস্থান করছেন তাদের মধ্য থেকে অনেকেই স্টেশনে এসে উষ্ণ ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে হাজীগঞ্জ থেকে আগত মেয়র মহোদয়সহ মেহমানদের জন্য রেল জংশনের জিআরপি পুলিশ রেল কর্মকর্তা স্থানীয় সূধীজন এক ব্যতিক্রম ভালোবাসা ও পরমোৎসবে স্টেশনের একটি গেট আমন্ত্রিত অতিথির জন্য উন্মুক্ত রেখে অন্য গেট দিয়ে অন্যান্য যাত্রীদেরকে বের হওয়া এবং প্রবেশ করার ব্যবস্থা করেন।

কিছু সময় অপেক্ষা করতে না করতে চট্টগ্রাম কক্সবাজার রোডের একটি ভিআইপি বাস থামার পর হেলফার/কন্ট্রেকটার এবং চালক বলল এই গাড়িটি হাজীগঞ্জ পৌরসভা থেকে আগত মেহমানদের জন্য বরাদ্দ। আপনারা সকলে আমাদের গাড়িতে ওঠে আসন অলংকৃত করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। রেল জংশন থেকে সার্কিট হাউজ ও আর্ন্তজাতিক স্টেডিয়াম মার্কেটে অবস্থিত দি রয়েল গ্যলারি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গিয়ে সবাই এক এক করে জরুরী কাজ ও প্রেস হওয়ার পর এসে দেখি নাস্তা প্রস্তুত। যেমন রুটি ও বাটি ভরা মুরগী দিয়ে পাকানো মুগ ডাল সাথে রয়েছে হালুয়া। প্রথমে অনেকে ভেবেছে এখানে মাত্র দুটি রুটি। পরে দেখা যায় যে দুটি রুটির একটি রুটি অনেকে খেয়েছে আরেকটি রুটির খাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। তার কারণ হাজীগঞ্জের চারটি রুটি আর ওখানের একটি রুটির সমান হবে। পেট ভরে খাওয়ার পর পরই হয়ে গেলো নব নির্বাচিত মেয়রদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠানের সময়।

অদুরে সার্কিট হাউজটি হওয়ার কারণে এক এক করে পায়ে হেটে সবাই রওনা দেয়। সেখানে গিয়ে সার্কিট হাউজের ভিতরে মেয়র মহদোয় ও কাউন্সিলারসহ গুটি কয়েক সংবাদকর্মী প্রবেশ করার অনুমতি পায়। শপথ পাঠ শেষে হয় পবিত্র জুমা নামাজের আজানের পূর্বে। সকলে প্রস্তুতি নেয় জুমার নামাজ আদায়ের জন্য পাশে অবস্থিত চৌরাস্তার মোড়ে চট্টগ্রাম জামে মসজিদে। আবার কেউ কেউ আশ পাশের মসজিদে গিয়ে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ আদায় করে পুণরায় দি রয়েল গ্যলারি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ভুড়িভোজে অংশগ্রহণ করেন। ভুড়ি ভোজে খাবারের তালিকায় ছিলো গরম গরম টাটকা গরুর গোস্তের কালো ভুনা, গরুর নলা দিয়ে নেহারি, লাউ আর গরুর গোস্ত ছোলা ভুটের ডাল দিয়ে মিস্রিত তরকারি। সাথে ছিলো আরো অনেক কিছু। খাওয়ার শেষে হাটাহাটি ঘুরাঘুরি, সেলফি তোলা ও আবাসিক রেস্টুরেন্টে মেয়র মহোদয় ও নেতাকর্মী পাশে অবস্থিত আবাসিক হোটেলে কিছু সময় আনন্দঘন পরিবেশে কাটিয়ে পশ্চিম দিকে বেলা হেলে পড়ার আগেই আবার জড়ো হয়ে বাসে এসে উঠি।

বাস থেকে নেমে চট্টগ্রাম রেল জংশনে এসে কিছু সময় অপেক্ষার পর ট্রেন আসার পর ট্রেনের নির্ধারিত বগিতে এসে সবাই বসে পড়ি ঢুলু ঢুলু তন্দ্রাতুর চোখে। আসা যাওয়ার সময় আন্তনগর সাগরিকা ট্রেনের তৃতীয় নাম্বার বগিটি হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মহোদয়ের আমন্ত্রিত অতিথির জন্য ছিলো একান্ত ভাবে বরাদ্দ। যে বগিতে ট্রেনের টিকেট মাস্টার ট্রেন কর্তৃপক্ষ জিআরপি পুলিশসহ সকলের ভিআইপি বগির দিকে দৃষ্টি ছিলো। ট্রেন ছড়ার সাথে সাথে আবার পূর্বের ন্যায় গান কবিতা গল্প দিয়ে শুরু হয় যাত্রা। আমরা সবাই আনন্দমুখর পরিবেশে খুশিতে হই আটখানা। এরি মাঝে ট্রেন পৌছ যায় লাকসাম রেলজংশনে। ট্রেনে ওঠে হকার ডিম ও কমলা নিয়ে তারি সাথে ছিলো ঝাল মুড়িওলা। যেনো সবাই প্রতিযোগিতায় নামে কে কি পরিমাণ খেতে পারে। কেউ একটি বারের জন্য ভাবলোনা যে কত টাকা বিল হচ্ছে কে দিবে এই খাওয়ার বিল যে? সকলের একান্তভাবে মনোবল ছিলো যে যিনি আমাদের ঝাল মুড়ি, কমলা ও ডিম দিচ্ছেন ঠিক হিসাবও তারা রাখছেন।

সাথে আছেন আমাদের কোমল হৃদয়ের অধিকারী মেয়র মহোদয়। বিলের একটা হবেই হবে ইনশাল্লাহ। লাকসাম থেকে হাজীগঞ্জে কখনযে এসেছে ট্রেন এ যেনো টেরই পাইনি আমরা। মনে মনে ভাবছি এত তড়িঘড়িতে কেনোইবা যে ট্রেনটি হাজীগঞ্জ রেল স্টেশনে চলে আসলো। আরো কিছুক্ষণ সময় যদি পেতাম তাহলে হয়তোবা সবার সাথ একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিপুল বিলাস বৈভবে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতাম। ট্রেন থেকে নামার পূর্বে উঠে দাঁড়ালেন হাজীগঞ্জ পৌরসভার নগর পিতা আ.স.ম মাহাববুল আলম লিপন। তিনি আবেগময় সুরে বললেন, আপনাদের জন্য তেমন কিছু করতে পারিনি। শুধু নিয়ে যাওয়া এবং আসার মাঝেই কষ্ট দেয়া আর কিছুই নয়। আপনারা আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনাদের সকলের সাথে পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করবো। আমার দোষগুলো ধরিয়ে দিন। আমি শুধরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবো। আমি সকল চ্যালেনজিং কাজ করতে পছন্দ করি। প্রতিপক্ষ না থাকলে কাজ করে মজা পাওয়া যায় না। আপনারা সবাই হোটেলে কি খেয়েছেন না খেয়েছেন আমি জানি না।

তবে আপনারা সকলে আমার বাড়িতে গিয়ে চারটা ডাল ভাত খেলে আমি খুশি হবো। একদিন দুইদিন করে দিনক্ষণ পাড় হয়ে আসে মেয়র মহোদয়ের বাসার দাওয়াতের দিনক্ষণ। সবাই এক হয়ে মেয়রের বাসভবনে গিয়ে আবার ভুড়িভোজে অংশগ্রহণ করে। এ যেনো এক ব্যতিক্রম মেয়র তিনি। যিনি আতিথালয়ে সেরা। যার পৌরভবনে ছোট বড় গরীব দুখি সকলে খালি মুখে ফেরেননা। চা অথবা বিস্কুট নয়তোবা বাচ্চা বৃদ্ধ আবাল বনিতা সকলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে তার টেবিলের সম্মুখে এক ঝুড়ি চকলেট। কিছু না খেলেও একটি চকলেট খেতে হয়। গরীব অসহায় সকল মানুষের জন্য মেয়রের অফিসের দরজা উন্মুক্ত। কেউ যদি পাপোসে পা মুছে অথবা জুতা বাহিরে রেখে ওনার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এতে তিনি অসন্তষ্ট হন। ওনার কথা হলো সকলে আমরা মানুষ আমাদের মাঝে নেই কোনো ভেদাভেদ। সকলে এক সাড়িতে বসা এবং জুতা নিয়ে প্রবেশ করা তিনি পছন্দ করেন। যার যেই সমস্যা নিয়ে ওনার কাছে যান তিনি তার সাধ্যমত সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করেন।


লেখক:- হৃদয়ে চাঁদপুর এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ খবর

দিনপঞ্জিকা

April 2021
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

আর্কাইভস