হাজীগঞ্জে দুলাভাইয়ের প্রতারণার শিকার শ্যালক ইউনুছ ভূইয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি.

হাজীগঞ্জে দুলাভাইয়ের প্রতারণার শিকার শ্যালক ইউনুছ ভূইয়া আজ নিশ্ব হওয়ার পথে। জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৭নং ওয়ার্ড টোরাগড় মুন্সী বাড়ির মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মো. ইউনুছ ভূইয়া। ফরিদগঞ্জ উপজেলার মুন্সিরহাট বাজারের সাথে অবস্থিত আব্দুস সাত্তার ভূইয়া বাড়ির মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে বর্তমানে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে ভূমি ক্রয় করে বাড়ির মালিক। ভগ্নীপতি মো. সালাউদ্দিন ভূইয়া বিভিন্ন রকম তালবাহানার খপ্পরে আজ নিশ্ব হওয়ার পথে শ্যালক ইউনুছ ভূইয়া। ইউনুছ ভূইয়ার আপন চাচা মৃত আব্দুল মাজেদ ভূইয়ার বড় জামাতা মো সালাউদ্দিন ভূইয়া।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার বাদ মাগরিব আমাদের প্রতিনিধিকে শ্যালক ইউনুছ ভূইয়া জানায় আমি দীর্ঘ আজ কয়েক বছর আমার চাচাতো বোনের জামাই মো. সালাউদ্দিন ভূইয়ার সাথে বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে একের পর এক প্রতারণার শিকার হয়ে আসছি। ভগ্নীপতির প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে দুই লক্ষ, তিন লক্ষ এভাবে তার প্রয়োজনে আমার কাছ থেকে টাকা ধার নিতে নিতে দশ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। সে আমার কাছ থেকে তার প্রয়োজনে টাকাগুলো নিয়ে তার পাঁচ শতাংশ জায়গা আমার নামে রেজিস্ট্রারী করে দেই দিচ্ছি বলে তালবাহানা করছে।

আমি টাকাগুলো পাওয়ার জন্য বাড়ির লোকজনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে জানিয়ে টাকাগুলো আদায় করতে চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে থানা কোর্টে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দশ লক্ষ টাকার মামলা করি। অথচ সে আমার টাকা অথবা আমাকে যে পাঁচ শতাংশ জায়গা দিবে বলেছে সে জায়গা না দিয়ে উল্টো আমাকে হ্যাস্ত ন্যাস্ত করার উদ্দেশ্যে উঠে পড়ে লেগেছে। গত কয়েক দিন পূর্বে সে কোর্টের আদেশ এনে হাজীগঞ্জ থানায় পুলিশকে নিয়ে আমার ঘরে তল্লাসী চালিয়ে তার দেয়া বিভিন্ন সময়ের ডিগ ডুকুমেন্স এর কাগজ পত্র নিয়ে যায়।

এছাড়াও থানার এএসআইর প্রয়োজনে বাকি যে সকল কাগজ পত্র তিনি পাননি সেসকল কাগজপত্র আমার কাছে চাইলে আমি তা ফটোকপি করে ওনার কাছে বুঝিয়ে দেই। আমি স্বচ্ছ আছি বলে আমার কোনো ভয় নেই। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শুধু আমার মনে একটু কষ্ট যে, যেদিন আমার বসত বাড়িতে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের এএসআই মুজাম্মেল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গিয়েছিলেন। আমার বাসায় প্রশাসন আসবে ওই সংবাদ যদি আমি জানতাম তাহলে আমার চাঁদপুর কোর্টের কাজ আগে বা পরে সম্পন্ন করতাম। আমি নিজেই বাসায় থেকে প্রশাসনের কাজে সহযোগিতা করতাম।

তিনি আরো বলেন, আমার এই ভগ্নিপতীর কারণে আজ আমি টাকা পয়সা হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছি। আমি বুঝতে পারিনি তিনিযে এভাবে আমার সাথে ধোকা বাজি এবং প্রতারণার পথ খুঁজে নিবেন। আমাকে তিনি মন ভুলিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের চ্যাকের পাতায় টাকার অংক লিখে লিখে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। অথচ আজ আমার টাকাও দেয়না যে জায়গাটুকু আমার এই ১০লক্ষ টাকার বাবদ রেজিস্টারী করে দিবে বলেছে সেটিও দিচ্ছে না।

এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার নজরুল ইসলামসহ কয়েজন ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায় যে ইউনুছ ভূইয়াকে আমরা এলাকাবাসী বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময়ে এ টাকা পয়সার বিষয়ে সান্তনা দিয়ে আসলেও সালাউদ্দিন ভূইয়া আমাদের সাথে ওয়াদা করেছে যে এই বিষয়টি বসে এলাকায় সমাধা করে ফেলবে। অথচ তার মুখের কথায় আর কাজে এক পাওয়া যাচ্ছে না। সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনকে তার গার্ডিয়ান মেনে চলে। নয়তোবা এই বিষয়টি তাদের উভয়ের মাঝে আরো অনেক পূর্বেই মিমাংসা করে দেয়া যেতো।

হাজীগঞ্জ থানার এএসআই মুজাম্মেল হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি কোর্টের আদেশে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি যা পেয়েছি তার প্রতিবেদন দিয়ে দেবো। যখন আমি ইউনুছ ভূইয়ার বাসায় যাই তখন ইউনুছ ভূইয়া বাসায় না থাকায় আমি তার মুঠো ফোনে তার সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং থানায় এসে আমার সাথে সশরীরে প্রয়োজনীয় বাকী কাগজপত্র নিয়ে দেখা করার জন্য বলা হলে তিনি ওই সকল কাগজ পত্র আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে যায়।  

এ ব্যাপারে সালাউদ্দিন ভূইয়ার সাথে আমাদের প্রতিনিধি মুঠো ফোনে ও সরোজমিনে গিয়ে সাক্ষাতকার নিতে চাইলে তাকে না পাওয়ায় সাক্ষাতকার নেয়া সম্ভব হয় নাই।

জনপ্রিয় খবর

সর্বশেষ খবর

দিনপঞ্জিকা

October 2021
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

আর্কাইভস